সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:১৪ এএম
সম্পত্তির বিরোধে সোলায়মান রুবেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় বিচার চাইতে গিয়ে থানায় হয়রানির অভিযোগ!
বায়েজিদে অস্ত্রের মহড়া নিয়ে আতঙ্ক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; ওসি জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকায় জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা সোলায়মান রুবেলের ওপর একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি প্রচুর রক্তাক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের
মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একদল সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে সোলায়মান রুবেলের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত ও রক্তাক্ত হন। একজন নাগরিকের ওপর এ ধরনের প্রকাশ্য হামলার ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হামলার পরও কি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি?
অভিযোগ রয়েছে, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি সৃষ্টির মতো ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। প্রশ্ন উঠেছে, কারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত? তাদের কাছে অস্ত্র এলো কীভাবে? প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
বিচার চাইতে গিয়ে থানায় হয়রানির অভিযোগ!
এ ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, হামলার শিকার সোলায়মান রুবেল আইনগত প্রতিকার পাওয়ার আশায় মামলা করতে বায়েজিদ থানায় গেলে তাঁকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজন ব্যক্তি হামলার শিকার হয়ে বিচার চাইতে থানায় যাবেন, এটাই স্বাভাবিক ও আইনসম্মত অধিকার। কিন্তু অভিযোগকারী যদি থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার জন্য কোথায় যাবেন?
পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীদের শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগ গ্রহণ করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কোনো ব্যক্তি অপরাধের শিকার হলে তাঁর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা পুলিশের দায়িত্ব। অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো কিংবা অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের দায়িত্ব অপরাধীকে রক্ষা করা নয়, অপরাধ দমন করা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস থাকা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ জনগণের বন্ধু এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা হয়রানির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
কোনো থানায় যদি সাধারণ মানুষ মামলা করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। অপরদিকে নির্যাতিত মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি
সোলায়মান রুবেলের ওপর হামলার অভিযোগ, অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং বায়েজিদ থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ—সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
আমরা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—
১. সোলায়মান রুবেলের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
২. হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. বায়েজিদ থানার ওসি জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
৫. ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি কিংবা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য—আইন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আইন সবার জন্য সমান। একজন নির্যাতিত মানুষ থানায় গিয়ে বিচার চাইবেন, এটাই তাঁর সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, তার পরিচয় দেখে নয়, অপরাধের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁকেও যথাযথ তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।
জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে—এটাই প্রত্যাশা। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, হয়রানি নয়। জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: আজগর আলী মানিক
সম্পাদক, সিটিজি ক্রাইম নিউজ
কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, কর্মচারী রহিমের অবস... বিস্তারিত
প্রতিবাদ ও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং সিটিজি ক্র... বিস্তারিত
আলহামদুলিল্লাহ! আমার গর্ব, আমার সন্তানের সাফল্য। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, মা-বাবার দোয়া এবং সকলের ভà... বিস্তারিত
রাজারবাগ বাগপাড়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প কামরুল হাসান রিপনের নেতà§... বিস্তারিত
ফুলবাড়ীতে বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্à... বিস্তারিত
সবুজবাগ বালুর মাঠে আগামীকাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে চিকিৎসাসেবà¦... বিস্তারিত
কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, কর্মচারী রহিমের অবস... বিস্তারিত
প্রতিবাদ ও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং সিটিজি ক্র... বিস্তারিত
আলহামদুলিল্লাহ! আমার গর্ব, আমার সন্তানের সাফল্য। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, মা-বাবার দোয়া এবং সকলের ভà... বিস্তারিত
রাজারবাগ বাগপাড়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প কামরুল হাসান রিপনের নেতà§... বিস্তারিত