রেলের অনবোর্ড কর্মীদের বেতন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ—তবুও কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স ‘এস এ কর্পোরেশন’

রেলের অনবোর্ড কর্মীদের বেতন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ—তবুও কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স ‘এস এ কর্পোরেশন’

sub-editor    ০৬:৩৯ পিএম, ২০২৬-০৮-১৮    86


রেলের অনবোর্ড কর্মীদের বেতন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ—তবুও কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স ‘এস এ কর্পোরেশন’

রেলের অনবোর্ড কর্মীদের বেতন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ—তবুও কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স ‘এস এ কর্পোরেশন’
বেতন বরাদ্দ হলেও কর্মীদের হাতে পৌঁছায় না—ডিউটি পেতে উল্টো টাকা দেওয়ার অভিযোগ; মাদক পাচার, বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়েও প্রশ্ন
লেখক: আজগর আলি মানিক
সম্পাদক, সিটিজি ক্রাইম নিউজ
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনের অনবোর্ড সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের বেতন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে অনবোর্ড কর্মীদের জন্য প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করলেও সেই অর্থের পুরোটা কিংবা কোনো অংশই কর্মীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। বরং ডিউটি পাওয়ার জন্য কর্মীদের ঠিকাদারপক্ষকে টাকা দিতে হচ্ছে। রেলওয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মী ও কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনবল সংকট মোকাবিলার কথা বলে ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেনে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনারসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব পদের মধ্যে ক্লিনারের মাসিক বেতন প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ম্যানেজারের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ হাজার টাকা নির্ধারিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অন্যান্য পদের বেতনেও নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রেনের অনবোর্ড জনবলের জন্য মাসে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল পরিশোধ করা হয়। পাঁচটি ট্রেন মিলিয়ে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন বাবদ অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিযোগ, সেই অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায় না।
পাঁচ ট্রেনের কর্মীদের বেতন নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধূলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।
কর্মীদের অভিযোগ, বেতন না পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ডিউটি পেতেও তাদের অর্থ দিতে হয়। ফলে অনেক কর্মী আর্থিক সংকটে পড়ে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও দায় কার—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার স্টুয়ার্ড
অনবোর্ড কর্মীদের বিরুদ্ধে মাদক পরিবহনের অভিযোগের মধ্যে সম্প্রতি কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান (২০) গ্রেপ্তার হন। এর আগে গত বছরের ২৯ মার্চ একই ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোরের রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।
র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মাহবুর রহমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী হওয়ায় ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কোনো কর্মীর অপরাধের দায় সরাসরি প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
চলন্ত ট্রেনে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ
শুধু মাদক নয়, চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে বান্দরবানের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী—মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)—জড়িত ছিলেন।
এ ধরনের ঘটনা রেলওয়ের নিরাপত্তা ও অনবোর্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
‘গেস্ট’ পরিচয়ে বিনা টিকিটে যাত্রী ওঠানোর অভিযোগ
অনবোর্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—‘গেস্ট’ পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠানোর পর তাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ সরকারি রাজস্ব হিসেবে জমা না দিয়ে ভাগাভাগি করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিদিন পাঁচটি অনবোর্ড ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের দুই ট্রেন—পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস—থেকে এভাবে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর পরিমাণ প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা এবং মাসে কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থের একটি অংশ ঠিকাদারপক্ষকে দেওয়া হয় এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। তবে এই অভিযোগের সুনির্দিষ্ট হিসাব ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কর্মী নিয়োগেও লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
এস এ কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো কর্মী নিয়োগের নামে অর্থ আদায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্টুয়ার্ডসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অনেককে বেতন ও চাকরির পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল টাকা আয়ের প্রলোভনও দেখানো হয়।
চট্টগ্রামের পটিয়ার আনিছুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে তিনি ওই টাকা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি পাননি।
আনিছুর রহমান বলেন, টাকা ফেরত চাইলে তাকে বলা হয়—নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আনোয়ারার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তার দাবি, চাকরির আশ্বাসে তার কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। চাকরি না পাওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রেই কোনো লিখিত কাগজ বা রসিদ দেওয়া হয়নি। ফলে পরে তারা আইনি প্রতিকার চাইতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
‘ডিউটি পেতে টাকা দিতে হয়’—রেল কর্মকর্তার অভিযোগ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, অনবোর্ড কর্মীদের নিয়োগ ও বেতন ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তার ভাষ্য, যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের অনেককেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি এবং বেতন পাওয়ার বিষয়েও সমস্যা রয়েছে। এমনকি ডিউটি পেতেও কর্মীদের টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, টেন্ডারে নির্ধারিত জনবলের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এতে রেলওয়ের টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
তথ্য দিতে অনাগ্রহী রেল কর্মকর্তারা
অনবোর্ড কর্মী নিয়োগ ও বেতন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, তার কাছে এ বিষয়ে তথ্য নেই এবং কমার্শিয়াল চিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের অনেকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব  হয়নি।
কেন বারবার এস এ কর্পোরেশন?
রেলওয়ের ঠিকাদারি খাতেও এস এ কর্পোরেশনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের একাধিক টেন্ডারে প্রতিষ্ঠানটির প্রভাব রয়েছে। অনবোর্ড ও ক্যাটারিংয়ের পাশাপাশি রেলওয়ের বিভিন্ন কাজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এক ঠিকাদার নাছির উদ্দিন মোহন অভিযোগ করেন, একই সময়ে ঠিকাদারি শুরু করলেও এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার দাবি, শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বারবার কাজ পেয়ে যাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সম্পদের উৎস এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শাহ আলমের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী শাহ আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করলেও মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তার জবাব দেন।
মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে শাহ আলম বলেন, অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ব্যক্তি হিসেবে দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
অনবোর্ড ও ক্যাটারিং কর্মীরা বেতন পান না এবং ডিউটি পেতে টাকা দিতে হয়—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন এবং পরে এ বিষয়ে বসে কথা বলবেন।
রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) বলেন, ইয়াবা পাচার, ধর্ষণসহ এ ধরনের ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তবে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় অভিযুক্তরা রেলওয়ের স্থায়ী কর্মচারী নন; তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত কর্মী। মালিকপক্ষ এসব অপরাধে জড়িত কি না, তা তদন্তের বিষয়।
এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলমের বিরুদ্ধে দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তদন্তই এখন সময়ের দাবি
রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনবোর্ড সেবা, টিকিট, ক্যাটারিং ও কর্মী নিয়োগের নামে যদি কোনো ধরনের অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ, মাদক পাচার বা রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা দ্রুত তদন্তের দাবি রাখে।
বিশেষ করে—
১. অনবোর্ড কর্মীদের জন্য রেলওয়ে যে অর্থ বরাদ্দ দেয়, তা প্রকৃত কর্মীদের হাতে পৌঁছায় কি না;
২. নিয়োগের নামে কোনো প্রার্থী থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না; ৩. বিনা টিকিটে ‘গেস্ট’ যাত্রী ওঠানোর মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে কি না;
৪. অনবোর্ড কর্মীদের মাধ্যমে মাদক পরিবহনের কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না;
৫. টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জনবল নিয়োগ হচ্ছে কি না;
৬. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক বা অন্য কোনো স্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে কি না—
এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ও রাজস্ব উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত হলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র প্রকাশ করে প্রকৃত সত্যও জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
সিটিজি ক্রাইম নিউজের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
লেখক: আজগর আলি মানিক
সম্পাদক, সিটিজি ক্রাইম নিউজ


রিটেলেড নিউজ

দীঘিনালায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ: মেরুং বাজারে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ

দীঘিনালায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ: মেরুং বাজারে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ

sub-editor

দীঘিনালায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ: মেরুং বাজারে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সম... বিস্তারিত

আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত

আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত

sub-editor

আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত বিআর... বিস্তারিত

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

sub-editor

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ... বিস্তারিত

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

sub-editor

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ... বিস্তারিত

ভারতীয় সনদে চিকিৎসক পরিচয়? নরসিংদীর স্বপন বাউলকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন

ভারতীয় সনদে চিকিৎসক পরিচয়? নরসিংদীর স্বপন বাউলকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন

sub-editor

ভারতীয় সনদে চিকিৎসক পরিচয়? নরসিংদীর স্বপন বাউলকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক চেম... বিস্তারিত

বন্যায় ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে হাফেজ ইলিয়াছের পরিবার, মানবিক সহায়তার আকুতি

বন্যায় ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে হাফেজ ইলিয়াছের পরিবার, মানবিক সহায়তার আকুতি

sub-editor

বন্যায় ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে হাফেজ ইলিয়াছের পরিবার, মানবিক সহায়তার আকুতি নিজস্ব প্রতিবেদক: ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

দীঘিনালায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ: মেরুং বাজারে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ

দীঘিনালায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ: মেরুং বাজারে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ

sub-editor

দীঘিনালায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ: মেরুং বাজারে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সম... বিস্তারিত

আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত

আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত

sub-editor

আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত বিআর... বিস্তারিত

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

sub-editor

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ... বিস্তারিত

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা

sub-editor

মোবাইলে হত্যার হুমকির অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজনের ঘোরাফেরা নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ... বিস্তারিত