বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৫ এএম
লেখক: আজগর আলি মানিক
চট্টগ্রাম: সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিআরটিএ কার্যালয়কে ঘিরে উঠেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। সেবাপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নগরীর বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তন ও রুট পারমিটসহ
বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য হচ্ছেন আবেদনকারীরা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দালালদের একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহ। ভুক্তভোগীদের দাবি, তার প্রভাব ও আশীর্বাদ ছাড়া বিআরটিএর অনেক কাজই সহজে সম্পন্ন হয় না।
একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, নতুন বাসের রুট পারমিট পেতে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। একইভাবে রুট পারমিট নবায়ন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস সনদ গ্রহণ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন আবেদনকারী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয় কিংবা বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে বারবার ফেরত দেওয়া হয়।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, প্রভাবশালী দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে অনেককে অকারণে অকৃতকার্য করা হয়। এতে বাধ্য হয়ে অনেকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের পথ বেছে নেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র বিপুল আর্থিক সুবিধা অর্জন করেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। যদিও এসব তথ্যের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদকের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মো. সলিম উল্যাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।সচেতন মহলের মতে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিআরটিএকে দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর নজরদারি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে তারা মনে করেন। বিস্তারিত ভিডিও নিউজে আসবে ctgcrimetv.com মে অপেক্ষায় থাকেন।
— আজগর আলি মানিক সম্পাদক, সিটিজি ক্রাইম নিউজ।
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
সোনাইমুড়ীতে দোকানের আড়ালে বড় ধরনের জুয়ার আসর পেছনের কক্ষে বসে কথিত জুয়ার আসর, পালানোর জন্য রয়েছে ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত