বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩২ এএম
রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারে এলাকাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি
চট্টগ্রাম থেকে ওমর ফারুক চট্টগ্রাম জেলা
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর অপরাধ সাম্রাজ্য। স্থানীয় কাউন্সিলরের সহোদর হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জড়িয়ে পড়েছেন একাধিক গুরুতর অপরাধে। সম্প্রতি আলোচিত “জুলাই ছাত্র হত্যাকাণ্ড” মামলার এজারভুক্ত আসামি হিসেবে তার নাম উঠে আসায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমিদখল ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেন আলী এলাকায় নিজেকে সমাজপতি, সরদার বা রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে
পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি একজন দুর্ধর্ষ ভূমিদস্যু। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলাকার সরকারি ও বেসরকারি জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য দফতরের টেন্ডার দখল করাও তার নৈমিত্তিক কাজ। এসব টেন্ডারে অংশ নিতে না দিয়ে প্রতিযোগীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ
হোসেন আলীর বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। বাজারে দোকান বরাদ্দ, নির্মাণকাজ, এমনকি স্কুল-কলেজের টেন্ডার কিংবা অনুদান সংগ্রহেও হস্তক্ষেপ করেন তিনি। এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তারেও তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাঁচলাইশ এলাকার কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্ট, যেখানে হোসেন আলীর লোকজন প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, অথচ প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
জুলাই ছাত্র হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা
সম্প্রতি আলোচিত ‘জুলাই ছাত্র হত্যাকাণ্ডে’ সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে হোসেন আলীর নাম এজারভুক্ত আসামিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি এখনো পর্যন্ত ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
স্থানীয়দের আতঙ্ক ও ক্ষোভ
এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা কোনো সাধারণ অপরাধী না, ওর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব আছে। আমরা মুখ খুলতে পারি না, কারণ পরদিনই হামলার শিকার হতে হয়। ওর লোকজন কাউকে রেহাই দেয় না।
আরেকজন যোগ করেন, “ও কাউন্সিলরের ভাই বলে পুলিশেরও সাহস হয় না কিছু বলার। ওর কারণে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
এলাকাবাসী এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত এবং হোসেন আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
পাঁচলাইশ থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, আমরা অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
উপসংহার
চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়ার্ডে এমন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। তারা বলছেন, হোসেন আলীর মতো ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
সোনাইমুড়ীতে দোকানের আড়ালে বড় ধরনের জুয়ার আসর পেছনের কক্ষে বসে কথিত জুয়ার আসর, পালানোর জন্য রয়েছে ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত