বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৩ এএম
রিপোর্ট করেছেন আজগর আলি মানিক সম্পাদক সিটিজি ক্রাইম নিউজ।
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় আলোচিত সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ তুলেছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও আইনের বাইরে ঘুরে বেড়ালেও, পুলিশ মাঠে নেমে নীরিহ মানুষকে ধরে হয়রানি করছে। পরিবারের ভাষ্য, প্রকৃত আসামিদের বাঁচাতে নাটকীয়ভাবে তদন্তের গতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ: ‘ইকরামই মূল হত্যাকারী’
নিহত সরোয়ার বাবলার ভাই আজিজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা প্রথম দিন থেকেই দাবি করে আসছেন যে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি হলেন ইকরাম নামে এক যুবক। আজিজ জানান, “আমরা নিশ্চিত তথ্য পেয়েছি—ইকরামই মূল খুনি। ওর মাধ্যমেই বড় সাজ্জাদ পুরো পরিকল্পনা সাজিয়েছে। আমার ভাইকে হত্যার জন্য ২০ লাখ টাকার বাজেট করা হয়েছিল বলে আমরা জানি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ভাইকে নিয়ে কেউ যদি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে, সেই দায় আমরা নেব না। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এই ঘটনার সঙ্গে বড় সাজ্জাদ ও তার গ্রুপ জড়িত—আর কেউ না।”
বড় সাজ্জাদ গ্রুপ নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
ঘটনার পর স্থানীয়দের বড় একটি অংশও বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, এলাকায় বিভিন্ন সময় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, ক্ষমতার দাপট দেখানো, এবং প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে পরিকল্পিত হামলার মতো অপকর্মের সঙ্গে নামটি জড়িয়ে এসেছে আগেও।
একজন স্থানীয় বলেন, “ধর ধর—ছাড়ি দে, এই ধরনের ক্ষমতা দেখানোই ওদের কাজ। আমরা আগেও ভয় পাইছিলাম, শেষে বাবলার মতো মানুষকেই হত্যা করতে পিছপা হয়নি।”
পুলিশি হয়রানির অভিযোগ
সরোয়ার বাবলার পরিবার দাবি করছে, ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পুলিশ নানাভাবে সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে চাপ সৃষ্টি করছে।
আজিজ বলেন, “নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকতে পুলিশ এখন নির্দোষদের ধরে হয়রানি করছে। আসল খুনিরা বাইরে ঘুরতেছে—আমরা এটা মেনে নেব না।”
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার
বায়েজিদ থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করে জানায়, “আমরা কোনও পক্ষ নিয়ে কাজ করছি না। তদন্তের স্বার্থে যাদের দরকার, তাদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কাউকে অযথা হয়রানি করার প্রশ্নই আসে না।”
তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
তদন্তে গতি নেই—অভিযোগ আইনজীবীর
নিহত বাবলার পরিবারে নিযুক্ত আইনজীবী বলেন, “একটা হত্যাকাণ্ডের পর এতদিনেও মূল সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়নি—এটাই প্রমাণ করে তদন্তে গতি নেই। তদন্তে ইচ্ছাকৃত গাফিলতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সাক্ষীদের নিরাপত্তা নেই, পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।”
এলাকাজুড়ে উত্তেজনা
ঘটনার পর থেকে বায়েজিদ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় অনেকেই মনে করছেন, মামলাটি রাজনৈতিক বা ক্ষমতার প্রভাবের কারণে জটিল হয়ে উঠছে। তারা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন।
পরিবারের হুঁশিয়ারি
নিহত বাবলার ভাই আজিজ বলেন,
“আমরা কোনও অবস্থাতেই এই হত্যার বিচার ছাড়ব না। যে-ই হোক, যারই নাম আসুক—এই হত্যার পেছনে যারা আছে তাদের মুখোশ খুলব। প্রয়োজনে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।
সরোয়ার বাবলা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয়দের ক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চরমে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
সোনাইমুড়ীতে দোকানের আড়ালে বড় ধরনের জুয়ার আসর পেছনের কক্ষে বসে কথিত জুয়ার আসর, পালানোর জন্য রয়েছে ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত