বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৪২ এএম
অপ্রয়োজনীয় টেস্টে রোগীর পকেট ফাঁকা — চিকিৎসা নয়, চলছে নির্মম ব্যবসা স্বাস্থ্যখাতে
আজগর আলি মানিক সম্পাদক সিটিজি ক্রাইম নিউজ।
রোগী নয়, লাভই এখন চিকিৎসার মাপকাঠি
দেশজুড়ে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য এখন চরমে। রোগ ধরা তো দূরের কথা, অনেক ডাক্তার রোগ নির্ণয়ের বদলে রোগীকে একের পর এক টেস্টের নির্দেশ দেন। ফলে চিকিৎসার আগে খরচ হয়ে যায় হাজার হাজার টাকা।
প্রশ্ন উঠেছে—রোগ ধরতে না পারলে টেস্টের খরচ রোগী কেন দেবে? জনগণের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এখন পরিণত হয়েছে মুনাফার যুদ্ধে।
‘আধুনিক টেস্ট সুবিধা’র আড়ালে কোটি টাকার কারবার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারাদেশে গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার—রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। বিশাল ভবন, উজ্জ্বল সাইনবোর্ডে লেখা “আধুনিক টেস্ট সুবিধা” — কিন্তু এই আধুনিকতার পেছনে লুকিয়ে আছে অঢেল টাকা কামানোর প্রতিযোগিতা।
চিকিৎসকরা রোগ শনাক্তের পরিবর্তে প্রায় প্রতিটি রোগীকেই নানা রকম পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন। CBC, X-Ray, ECG, Ultrasound, এমনকি MRI ও CT Scan পর্যন্ত লিখে দেন প্রথম সাক্ষাৎকারেই।
রোগীরা বলছেন, অনেক সময় রিপোর্টে কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও আবার নতুন টেস্টের পরামর্শ আসে। ফলে তাদের পকেট আরও ফাঁকা হয়, কিন্তু রোগ নিরাময়ের বদলে বেড়ে যায় হতাশা।
বিলের ভারে ন্যুব্জ সাধারণ মানুষ
টেস্ট ফি একেক জায়গায় একেক রকম। সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে হাসপাতাল ও ল্যাবগুলো।
ধানমণ্ডির এক রোগী জানান,
আমার সামান্য জ্বর হয়েছিল। ডাক্তার তিনটি রক্ত পরীক্ষা লিখে দিলেন, পরে বললেন আরেকটা টেস্ট করতে হবে। শেষমেশ বিল দাঁড়ায় প্রায় ৮,০০০ টাকা! রিপোর্টে কিছুই বের হয়নি।”
একজন শ্রমজীবী মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
চিকিৎসার চেয়ে টেস্টের খরচই বেশি। টাকা না থাকলে ভালো চিকিৎসা তো দূরের কথা, রিপোর্টও করাতে পারি না।”
অন্যদিকে, আইসিইউ রোগীদের বিল তো আরও আকাশছোঁয়া। অনেকে বলেন, চিকিৎসা শেষে ডিসকাউন্টের প্রলোভন দেখিয়ে রোগীর সঙ্গে ঠকবাজি করা হয়।
‘ডাক্তারেরা রোগ না ধরে কমিশন ধরছেন’ — অভিযোগ রোগীদের
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কমিশন দেয়। রোগী যত বেশি টেস্ট করবে, ডাক্তার তত বেশি আয় পাবেন। ফলে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বেড়েই চলছে।
স্বাস্থ্যসেবা এখন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তাদের প্রশ্ন,
চিকিৎসা যদি ব্যবসা হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? ডাক্তারি পাশ করে যদি কসাইয়ের মতো আচরণ করতে হয়, তবে এই পেশার মানে কী?”
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুব হোসেন বলেন,
প্রয়োজন ছাড়া টেস্ট করানো অনৈতিক ও অপরাধমূলক। এটি রোগীর আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করে। সরকারকে এখনই ডায়াগনস্টিক খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
প্রতিটি টেস্টের জন্য একটি মানদণ্ড থাকা উচিত। কে কখন কোন পরীক্ষা লিখবেন—তার ওপর নির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকতে হবে।”
সরকারি তদারকি নেই, সিন্ডিকেটের রাজত্ব
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে অনুমোদিত ও মানসম্মত কেন্দ্রের সংখ্যা অল্প। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়াই চলছে।
তদারকির অভাবে রোগী শোষণের এক ভয়ংকর চক্র তৈরি হয়েছে। ক্লিনিক ও ল্যাবগুলো এখন কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, অথচ জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দিন দিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জনমত ও দাবি
টেস্ট ফি নির্ধারণে সরকারি রেট তালিকা বাধ্যতামূলক করা
চিকিৎসক ও ল্যাবের আর্থিক যোগসাজশ তদন্ত করা
রোগীকে টেস্টের আগে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও খরচ জানানো
অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করালে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নিয়মিত অডিট ও লাইসেন্স যাচাই
মানুষের জীবন নয়, এখন শুধু মুনাফার হিসাব
এক সময় চিকিৎসা ছিল মানবতার প্রতীক। এখন সেটি পরিণত হয়েছে ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায়। আইসিইউ, ওষুধ, টেস্ট—সব ক্ষেত্রেই চলছে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা।
চিকিৎসা খাত মানুষের জীবনরক্ষার জায়গা, কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই তা মুনাফার মেশিনে পরিণত হচ্ছে। রোগীর ব্যথা-যন্ত্রণা হয়ে উঠছে ব্যবসার পণ্য।
দেশের সাধারণ মানুষ তাই প্রশ্ন তুলছেন—
ডাক্তাররা যদি রোগ ধরতে না পারেন, তাহলে টেস্টের খরচ কেন আমরা দেব?”
জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের একটাই দাবি—সরকার অবিলম্বে কঠোর নজরদারি চালিয়ে স্বাস্থ্যখাতের এই বাণিজ্যিক অনিয়ম বন্ধ করুক।
নয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে চিকিৎসা পেশা আর সেবার প্রতীক থাকবে না, থাকবে এক ভয়ংকর ব্যবসার নাম—‘স্বাস্থ্য ব্যবসা’।
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
সোনাইমুড়ীতে দোকানের আড়ালে বড় ধরনের জুয়ার আসর পেছনের কক্ষে বসে কথিত জুয়ার আসর, পালানোর জন্য রয়েছে ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত