বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৬ এএম
গাজীপুরের টঙ্গীতে ইয়াবা খোকন ও খলিলের নেতৃত্বে ভয়াবহ মাদক চক্র!
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ দাড়াইল এলাকায় ভয়াবহ মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে দুই আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী—ইয়াবা খোকন মিয়া এবং তার সহযোগী মোহাম্মদ খলিল মিয়া।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরা শুধু স্থানীয় জনগণের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলেনি, বরং এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও নারীর অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী অপরাধ সাম্রাজ্য।
ইয়াবা খোকনের ইতিহাস: ৬০ মামলার আসামি, পুলিশের চোখে ভয়ংকর অপরাধী
খোকন মিয়া, যিনি এলাকায় “ইয়াবা খোকন” নামেই বেশি পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ৬০টিরও বেশি মামলা, যার মধ্যে রয়েছে:
মাদক আইনে ৩৫টি মামলা
অস্ত্র আইনে ৭টি মামলা
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে ১৮টি মামলা
খোকনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় ২০১1 সালে, যখন পুলিশ তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে। এরপর থেকে সে কখনও জেল, কখনও জামিন—এই চক্রেই থেকেছে, কিন্তু মাদক ব্যবসা বন্ধ করেনি।
স্থানীয়রা জানায়, খোকন নিজের নামে কোনো সম্পত্তি রাখে না, বরং ভুয়া এনআইডি ও ভাড়াটিয়া ঠিকানায় গোপনে ব্যবসা পরিচালনা করে। তার রয়েছে একাধিক “ফাঁড়ি” বা গোপন আস্তানা যেখানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল মজুত রাখে।
খলিল মিয়া: খোকনের ডানহাত, ১৪ স্ত্রীর মালিক, মাদকেই জীবিকা
মোহাম্মদ খলিল মিয়া, পিতা মিতু জয়নাল আবেদীন, পশ্চিম দাঁড়াইল বটতলা বস্তির বাসিন্দা। প্রথমে খোকনের একজন দালাল হিসেবে কাজ শুরু করলেও এখন সে নিজেই পুরো একটি ডিলার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তার নামেই এখন মাদক বেচাকেনা হয়।
খলিলের কথিত ছোট স্ত্রী রুজি আক্তার জানায়,
সারারাত ইয়াবা, গাঁজা বিক্রি করে। দিনে ঘুমায়। ব্যবহার এত খারাপ, সংসার করা অসম্ভব। তার ১৪ জন স্ত্রী আছে, আমরা ৩ জন এখন আলাদা থাকি। বাকি সবাই তার ব্যবসায় সহযোগিতা করে।”
রুজির এই বক্তব্য সমাজে চরম নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়। স্ত্রীদের ব্যবহার করে মাদক পাচার ও বিক্রিতে ব্যবহার করার অভিযোগ নতুন কিছু নয়, কিন্তু এভাবে পারিবারিক কাঠামোকে ব্যবসার হাতিয়ার বানানোর ঘটনা গাজীপুরে বিরল।
মাদক চক্রে কারা আছে?
খোকন ও খলিলের মাদক সিন্ডিকেটে রয়েছে আরও ১০-১৫ জন সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম:
গাঁজাখোর সমুন
ইয়াবা আরিফ
জুয়াড়ি মামুন
টিকটক বালু (মাদক পরিবহনকারী)
নারী ব্যবহারকারী রুবেল ওরফে ডলার রুবেল
এছাড়া কিছু নাম না জানা সদস্য রয়েছে যারা "চেকার", "সিগনালম্যান" এবং "গোডাউন কিপার" হিসেবে কাজ করে। এই সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে চালায় ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও বিদেশি মদের ব্যবসা।
পুলিশ নীরব কেন?
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ করেও ফল হয়নি। কারণ, এই চক্র নিয়মিত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে চলে। মাসিক “চাঁদা” দিয়ে তারা নিজেদেরকে আইনের হাত থেকে রক্ষা করে।
একজন এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
থানায় নাম বললে ঝামেলা। ওদের লোকজন রাতেই এসে হুমকি দেয়। মাঝে মাঝে পুলিশ ধরে, আবার কিছুদিন পর ছাড়া পেয়ে আবার শুরু করে।”
জনগণের দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা নিন
এই সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এমনকি কিশোর গ্যাং পর্যন্ত এদের ব্যবসার গ্রাহক ও কর্মী হয়ে উঠছে।
জনগণ চায়:
র্যাব বা ডিবির মাধ্যমে বিশেষ অভিযান
সবার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান
মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা
এলাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা
মাদক এখন শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজের শত্রু। ইয়াবা খোকন ও খলিল মিয়ার মত অপরাধীরা যতদিন না ধরা পড়ছে, ততদিন গাজীপুরের এই জনপদ নিরাপদ নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর একটাই আবেদন—এই মাদকসিন্ডিকেটকে নিশ্চিহ্ন করা হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ দাড়াইল এলাকায় ভয়াবহ মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে দুই আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী—ইয়াবা খোকন মিয়া এবং তার সহযোগী মোহাম্মদ খলিল মিয়া।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরা শুধু স্থানীয় জনগণের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলেনি, বরং এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও নারীর অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী অপরাধ সাম্রাজ্য।
ইয়াবা খোকনের ইতিহাস: ৬০ মামলার আসামি, পুলিশের চোখে ভয়ংকর অপরাধী
খোকন মিয়া, যিনি এলাকায় “ইয়াবা খোকন” নামেই বেশি পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ৬০টিরও বেশি মামলা, যার মধ্যে রয়েছে:
মাদক আইনে ৩৫টি মামলা
অস্ত্র আইনে ৭টি মামলা
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে ১৮টি মামলা
খোকনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় ২০১1 সালে, যখন পুলিশ তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে। এরপর থেকে সে কখনও জেল, কখনও জামিন—এই চক্রেই থেকেছে, কিন্তু মাদক ব্যবসা বন্ধ করেনি।
স্থানীয়রা জানায়, খোকন নিজের নামে কোনো সম্পত্তি রাখে না, বরং ভুয়া এনআইডি ও ভাড়াটিয়া ঠিকানায় গোপনে ব্যবসা পরিচালনা করে। তার রয়েছে একাধিক “ফাঁড়ি” বা গোপন আস্তানা যেখানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল মজুত রাখে।
খলিল মিয়া: খোকনের ডানহাত, ১৪ স্ত্রীর মালিক, মাদকেই জীবিকা
মোহাম্মদ খলিল মিয়া, পিতা মিতু জয়নাল আবেদীন, পশ্চিম দাঁড়াইল বটতলা বস্তির বাসিন্দা। প্রথমে খোকনের একজন দালাল হিসেবে কাজ শুরু করলেও এখন সে নিজেই পুরো একটি ডিলার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তার নামেই এখন মাদক বেচাকেনা হয়।
খলিলের কথিত ছোট স্ত্রী রুজি আক্তার জানায়,
সারারাত ইয়াবা, গাঁজা বিক্রি করে। দিনে ঘুমায়। ব্যবহার এত খারাপ, সংসার করা অসম্ভব। তার ১৪ জন স্ত্রী আছে, আমরা ৩ জন এখন আলাদা থাকি। বাকি সবাই তার ব্যবসায় সহযোগিতা করে।”
রুজির এই বক্তব্য সমাজে চরম নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়। স্ত্রীদের ব্যবহার করে মাদক পাচার ও বিক্রিতে ব্যবহার করার অভিযোগ নতুন কিছু নয়, কিন্তু এভাবে পারিবারিক কাঠামোকে ব্যবসার হাতিয়ার বানানোর ঘটনা গাজীপুরে বিরল।
মাদক চক্রে কারা আছে?
খোকন ও খলিলের মাদক সিন্ডিকেটে রয়েছে আরও ১০-১৫ জন সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম:
গাঁজাখোর সমুন
ইয়াবা আরিফ
জুয়াড়ি মামুন
টিকটক বালু (মাদক পরিবহনকারী)
নারী ব্যবহারকারী রুবেল ওরফে ডলার রুবেল
এছাড়া কিছু নাম না জানা সদস্য রয়েছে যারা "চেকার", "সিগনালম্যান" এবং "গোডাউন কিপার" হিসেবে কাজ করে। এই সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে চালায় ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও বিদেশি মদের ব্যবসা।
পুলিশ নীরব কেন?
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ করেও ফল হয়নি। কারণ, এই চক্র নিয়মিত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে চলে। মাসিক “চাঁদা” দিয়ে তারা নিজেদেরকে আইনের হাত থেকে রক্ষা করে।
একজন এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
থানায় নাম বললে ঝামেলা। ওদের লোকজন রাতেই এসে হুমকি দেয়। মাঝে মাঝে পুলিশ ধরে, আবার কিছুদিন পর ছাড়া পেয়ে আবার শুরু করে।”
জনগণের দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা নিন
এই সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এমনকি কিশোর গ্যাং পর্যন্ত এদের ব্যবসার গ্রাহক ও কর্মী হয়ে উঠছে।
জনগণ চায়:
র্যাব বা ডিবির মাধ্যমে বিশেষ অভিযান
সবার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান
মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা
এলাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা
মাদক এখন শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজের শত্রু। ইয়াবা খোকন ও খলিল মিয়ার মত অপরাধীরা যতদিন না ধরা পড়ছে, ততদিন গাজীপুরের এই জনপদ নিরাপদ নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর একটাই আবেদন—এই মাদকসিন্ডিকেটকে নিশ্চিহ্ন করা হোক।
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
সোনাইমুড়ীতে দোকানের আড়ালে বড় ধরনের জুয়ার আসর পেছনের কক্ষে বসে কথিত জুয়ার আসর, পালানোর জন্য রয়েছে ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত