বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩০ এএম
চট্টগ্রামে ছাত্র হত্যার মূল আসামি ইয়াবা গডফাদার নুরুল আবছার এখনো গ্রেফতার হয়নি। পতেঙ্গা থানার ওসির কোন ভূমিকা নাই।
চট্টগ্রামের ‘বাবা আবছার’: অবৈধ কর্মকাণ্ডের সম্রাট, ইয়াবা সিন্ডিকেটের গডফাদার
নাম: ইয়াবা আবছার (প্রকাশ: বাবা আবছার)
অবস্থান: পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
একজন নাম নয়, একটি ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার একটি সাধারণ নাম এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের প্রতীক। ‘বাবা আবছার’ নামে পরিচিত নুরুল আফসার, একসময় ছিলেন সামুদ্রিক মাছ ধরার একজন মাঝি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই নৌকার মাঝিই এখন দেশের অন্যতম মাদক সাম্রাজ্যের গডফাদার।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে বহুসংখ্যক হত্যা, মাদক ও অস্ত্র মামলা, এবং রয়েছে র্যাব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ‘ক্রসফায়ারে সম্ভাব্য আসামি’ হিসেবে নাম। এরপরও তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
প্রশাসনের নীরব দর্শক ভূমিকা প্রশ্নের মুখে
স্থানীয় সূত্র, গোয়েন্দা তথ্য এবং একাধিক মামলার নথি বলছে—বাবা আবছার কেবল একজন অপরাধী নন, বরং তিনি একটি সংগঠিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে তা চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে তার সিন্ডিকেট।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় যা যা রয়েছে:
একাধিক হত্যা মামলা
মাদক ও অস্ত্র মামলা (কোতোয়ালি, চান্দগাঁও, বাড্ডা থানায় মামলা)
জারিকৃত সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা
দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ
কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
কিভাবে মাঝি থেকে মাদক সম্রাট?
একসময় সমুদ্রের মাঝি ছিলেন নুরুল আফসার। এরপর ধাপে ধাপে তিনি গড়ে তোলেন:
ইয়াবা প্রস্তুত ও সাপ্লাই নেটওয়ার্ক
কোটি কোটি টাকার অর্থ লেনদেনের অবৈধ চক্র
প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তাদের ছত্রছায়া
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিজেকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলা
পরিবারকেন্দ্রিক মাদক সাম্রাজ্য
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বাবা আবছারের ছেলে বর্তমানে তার ব্যবসার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে বহু কোটি টাকার সম্পদ, এবং বাড়ির নিচে রয়েছে গোপন ‘টাকার শোরুম’, যেখানে মাটির নিচে লুকানো থাকে নগদ অর্থ।
পুত্র, স্ত্রী ও আত্মীয়দের মাধ্যমে সম্পদ এবং টাকা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহজে সেগুলো শনাক্ত না করতে পারে।
কক্সবাজার-পতেঙ্গা-ঢাকা: রক্তাক্ত ইয়াবা রুট
‘বাবা আবছার’ যুক্ত কক্সবাজারের আলোচিত ইয়াবা গডফাদার বদীর আত্মীয়দের সঙ্গে। তারা মিলে গড়ে তুলেছে একটি সিন্ডিকেট, যা নিয়মিতভাবে ইয়াবা পাঠাচ্ছে:
কক্সবাজার → আনোয়ারা/পতেঙ্গা → চট্টগ্রাম শহর → ঢাকা ও অন্যান্য জেলা
এই রুটে প্রশাসনের একাংশের নীরব ভূমিকা বা সহযোগিতা থাকায় ইয়াবা পাচার হয়ে উঠেছে নিরাপদ ও লাভজনক।
মামলা থাকলেও কেন গ্রেফতার নয়?
প্রশ্ন: বাবার নামে এত মামলা, পরোয়ানা, দুদকে অভিযোগ—তবুও তিনি কীভাবে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকেন?
উত্তর:
স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও একজন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
টাকার প্রভাবে প্রভাবিত প্রশাসন
সাংবাদিকদের উপর চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানি
আইন প্রয়োগে ইচ্ছার অভাব বা ভয়
দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ, কিন্তু নীরবতা কেন?
বাবা আবছারের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে:
অবৈধ সম্পদের হিসাব
ব্যাংক ট্রান্সেকশন ও অর্থপাচারের প্রমাণ
স্বজনদের নামে সম্পদ হস্তান্তর
কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এই নীরবতা প্রশ্ন তুলেছে—দুদক কি সত্যিই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে?
সাংবাদিকদের সাহসিকতা
যখন অনেক গণমাধ্যম এবং সাংবাদিক অর্থ বা ভয়ের চাপে নীরব, তখন কিছু সাহসী সাংবাদিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই অপরাধ সাম্রাজ্য উন্মোচনে।
তাদের প্রতি জানানো হচ্ছে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
এখনই সময় ব্যবস্থা নেওয়ার
‘বাবা আবছার’ এখন একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলাদেশের অবৈধ মাদক চক্রের প্রতীক, এক ভয়ঙ্কর ব্র্যান্ড। সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র্যাব, পুলিশ, দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি জনগণের একটাই দাবি
এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিন। না হলে আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের হাতে।
পরবর্তী পর্বে (দ্বিতীয় কিস্তি আসছে):
বাবা আবছারের অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত তালিকা
কারা তাকে সরাসরি মদদ দিচ্ছে?
মামলা থাকার পরও সে কিভাবে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়?
ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার ও বাস্তব অভিজ্ঞতা
এই প্রতিবেদনটি যদি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তবে শেয়ার করুন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখুন।
ছাত্র হত্যার মূল আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি – পতেঙ্গা থানার ওসির গাফিলতি।
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত