বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৩ এএম
রাঙ্গুনিয়ায় সন্ত্রাসের রাজত্ব: সেগুনবাগানে যুবককে কুপিয়ে জখম, এলাকাবাসীর ক্ষোভে ফুসে উঠেছে জনতা
চন্দ্রঘোনা, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) — রাঙ্গুনিয়ার সেগুনবাগান এলাকায় আবারও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। গত ২৩ আগস্ট বিকেলে লিচুবাগান বাজারে যাওয়ার পথে মোহাম্মদ ইউনুস (পিতা: জালাল ঘাট) নামের এক যুবক দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।
হামলার বিবরণ:
মোহাম্মদ ইউনুস পেশায় শহরে কর্মরত থাকলেও সম্প্রতি গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বারোগুনিয়া এলাকার সেগুনবাগান সংলগ্ন পথে হামলার শিকার হন তিনি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,
৩-৪ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী হঠাৎ করে এসে ইউনুসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অস্ত্রের কোপে ইউনুস গুরুতর জখম হন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্তদের নাম ও সন্ত্রাসী চক্র:
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে আসছে একটি চক্র। অভিযুক্তদের নাম উঠে এসেছে:
লেংড়া সোহেল
মোঃ জিসান
মোঃ সিজান
এই তিনজন মিলে পুরো ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একপ্রকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কেউ মুখ খুললে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। সাংবাদিকদের এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, ছবি তুললে ক্যামেরা ভেঙে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।
জনগণের বক্তব্য:
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন:
সোহেল বাহিনী এতটাই প্রভাবশালী যে, আমরা মুখ খুলতে সাহস পাই না। গ্রামের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি, ইয়াবা ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন—কোন অপরাধ নেই তারা করছে না। পুলিশের ভয়ে নয়, তারা নিজেদের পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
অতীত ইতিহাস:
এই সন্ত্রাসী চক্রটির অতীতে একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ছয়-সাত বছর আগে সেগুনবাগান এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেও এই চক্রের হাত রয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের মতে, সেই সময়কার সার্কেল এসপি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসে নিহত ব্যক্তির লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই এই সন্ত্রাসীদের নাম উঠে আসে। এরপর থেকে তারা এলাকা দখল করে রাখে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যান্য অপরাধ:
স্থানীয় দোকানদার জসিমের দোকানে চুরি
রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি
নারীদের উত্যক্ত ও হয়রানি
ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসা
এলাকাবাসীর কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায়
সাংবাদিকের পরিদর্শন ও প্রতিবেদন:
ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিক ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। সবার বক্তব্যে উঠে আসে একই অভিযোগ—সোহেল-জিসান-সিজান বাহিনী এলাকায় সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি:
1. অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার
2. এলাকায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি
3. সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষে
4. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
5. পুরনো হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও বিচার
রিপোর্টার: ওমর ফারুক চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
???? প্রকাশের তারিখ: ২৪ আগস্ট ২০২৫
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত