বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২২ এএম
"অবসানের গুলিতে রক্তাক্ত এক অশ্রুভেজা সকাল : চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তার আত্মহননের বিবেগঝাঁপানো গল্প""
চট্টগ্রাম, ৭ মে— একটি গুলির শব্দ যেন থমকে দিল গোটা এক সকালের জীবনছন্দ। নিজের কর্মস্থলে, নিজের টেবিলের পাশে পড়ে রইলেন র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক পলাশ সাহা—নিস্তব্ধ, নিথর। কান্নার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চান্দগাঁও র্যাব ক্যাম্পে। বিসিএস ৩৭তম ব্যাচের এই প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তার এমন করুণ বিদায় শুধু চট্টগ্রাম নয়, নাড়া দিয়েছে দেশের প্রতিটি বিবেকবান হৃদয়কে।
বেলা ১১টার দিকে যখন সহকর্মীরা অভিযানের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন পলাশ সাহা নিজের কক্ষে একা, ভিতরে গুমোট আবহ। হঠাৎ এক মর্মান্তিক
গুলির শব্দ। দরজা খুলে সহকর্মীরা দেখতে পান রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে মেঝেতে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুকে গেঁথে থাকে প্রশ্ন—কেন এমন এক অবসান?
উদ্ধার করা হয় একটি চিরকুট—ঝরঝরে হাতের লেখা, কিন্তু শব্দগুলো ভারী, বিষাদে ভরপুর।
"আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না... বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর... দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।"
এই কয়েকটি বাক্য যেন মানুষের একাকিত্ব, দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা আর অন্তর্দহনের নিঃশেষ চিত্র। একজন মানুষ, যিনি প্রতিদিন অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন, সেই মানুষটাই হয়তো নিজের ভেতরের ঝড় ঠেকাতে পারেননি। রইল কেবল কিছু না বলা কথা, ফেলে যাওয়া আত্মীয়দের জন্য অসমাপ্ত ভালোবাসা, আর সমাজের উদ্দেশে এক নীরব অভিযোগ।
পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন সহকর্মীরা। কিন্তু একটি জীবন তো কেবল একটি পরিবারেই আবদ্ধ নয়। তার আশপাশে থাকে প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র, সহমর্মিতা—সেসব কোথায় ছিল?
পলাশ সাহার মৃত্যু আমাদের সামনে তুলে ধরেছে কর্তব্যরতদের মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ, নিঃসঙ্গতা এবং আত্মার ভিতরে জমে থাকা অতল বিষণ্নতার ভয়াবহ রূপ।
এই মৃত্যু আত্মহত্যা নয়—এ এক অমানবিক সমাজব্যবস্থার কাছে আত্মসমর্পণ।
প্রশ্ন উঠবেই—আমরা কি শুধু শোক প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকব? না কি এখনই সময়—ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্ন করা, মানুষকে বোঝার, তাদের পাশে দাঁড়ানোর?
এই মৃত্যু যেন আরেকটি সংখ্যা না হয়ে ওঠে—বরং হয়ে উঠুক এক জোরালো আলোর রেখা, যা সমাজকে বাধ্য করে ভাবতে, জাগতে, বদলাতে।
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত