বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:১৭ এএম
শিমুলতুলার বিছানা কিংবা এয়ারকুলার! কারাগারে 'অদ্ভুত' আবদার
আজগর আলী মানিক, চট্টগ্রাম
“আমার শিমুলতুলার বিছানা লাগবে। এয়ারকুলার ছাড়া তো চলবেই না। আর যাতায়াতের জন্য মাইক্রোবাস দিতেই হবে। কিংবা প্রচণ্ড গরমে চার্জার ফ্যান মাস্ট লাগবে...”। এসব আবদার কোনো পাঁচতারা হোটেলের গ্রাহকের নয়। এসব অদ্ভুত সব আবদার করে বসেছেন কারাগারে বন্দিজীবন অতিবাহিত করা কয়েকজন ভিআইপি কয়েদিরা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিআইপি কয়েদিরা অতিরিক্ত সুবিধা চাচ্ছেন, এমন একটি বিস্ময়কর চিত্র উঠে এসেছে। কারাগারের ভেতরে একদিকে সাধারণ কয়েদিরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জীবন অতিবাহিত করছেন, অপরদিকে একদল ‘বিশিষ্ট’ কয়েদি তাদের প্রাপ্য সুবিধার পাশাপাশি অসাধারণ আবদার করে চলেছেন।
এমন অদ্ভুত আবদারের তালিকায় নাম রয়েছে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির। এদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম.এ লতিফ, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, ফজলে করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, শিল্পপতি মো: মহসিন, ব্যবসায়ী জহির আহমেদ রতন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলাম, এএসপি রফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ভিআইপি কয়েদি।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের (ভিআইপি কয়েদিদের) প্রত্যেকের জন্য নিয়মিত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তবে এর মধ্যে বেশ কিছু আবদার অত্যন্ত অদ্ভুত। একদিকে যেমন কিছু কয়েদি তীব্র গরমে শিমুল তুলার নরম বিছানা এবং এয়ারকুলার চাইছেন, তেমনি অন্যদিকে তারা প্রায়ই মাইক্রোবাসের মাধ্যমে আদালতে যাতায়াতের দাবি করছেন। এসব আবদার নিশ্চিতভাবেই সাধারণ কয়েদিদের জন্য অসম্ভব।
এছাড়া, কিছু কয়েদি আরো ভিন্ন ধরনের সুবিধা চেয়েছেন। তারা আদালতে হাজিরার জন্য প্রিজনভ্যানে যাতায়াতের পরিবর্তে মাইক্রোবাসের দাবিও জানিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন এম.এ লতিফ, ফজলে করিম, আবদুর রহমান বদি, একরামুল করিম চৌধুরী এবং মোহাম্মদ আলী। বিশেষ করে ফজলে করিম, নদভী এবং লতিফ বেশ কয়েকবার এই ধরনের সুবিধা চেয়েছেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এরপরও তাদের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখেনি কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তবে এর মধ্যে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়নি। যেমন, কিছু কয়েদির জন্য আলাদা সেল, চিকিৎসা, এবং খাবারের ক্ষেত্রে কিছু উন্নত মানের সুবিধা দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, “বিভিন্ন বন্দির নানা ধরনের চাহিদা থাকতে পারে, তবে আইনের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি বন্দির জন্য যে সুবিধা রয়েছে, সেটি তাদের প্রাপ্য অধিকার, কিন্তু কোনোভাবেই নিয়মের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।”
বন্দিদের এই অদ্ভুত আবদারের মধ্যে একটি হলো, তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। এম.এ লতিফ ও ফজলে করিম কয়েকবার তাদের সেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছেন এবং তারা এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে, গত জানুয়ারি থেকে কারাগারের কর্তৃপক্ষ তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং তাদের কারাগারের সরকারি ফোনে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, শিমুল তুলার নরম বিছানা, পানি গরম করার জন্য হিটার এবং চার্জার ফ্যান ব্যবহারের জন্যও তারা আলাদা অনুমতি চাইছেন। এতে করে একদিকে যেমন সাধারণ কয়েদিরা নিজেদের অস্বস্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে কারাগারের কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে কঠিন হয়ে পড়েছে।
এরা যে শুধু নিজেদের সুবিধা চাইছেন, তা নয়; প্রায় প্রত্যেকেই নিজের ব্যবহৃত থালাবাসন পরিষ্কার করার জন্যও অতিরিক্ত সেবক চেয়েছেন। অনেকেই সেল পরিষ্কার করার জন্য একাধিক সেবক নিয়োগের দাবি করেছেন।
এদিকে, কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের নির্দেশনার ভিত্তিতে বন্দিরা পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান কোনোভাবেই করা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে ১২০ বছর বয়সী আসামি সাইফুল ইসলাম, ঋণখেলাপি মামলার আসামি জহির আহমেদ রতন এবং সাদ মুছা গ্রুপের মো. মহসিনের মতো ভিআইপি কয়েদিরা আলাদা সেল এবং সুবিধা পাচ্ছেন, যা কারাগারের নিয়মের আওতায় সীমিত হলেও তাদের জন্য কিছুটা উন্নত অবস্থান তৈরি করেছে।
সবশেষে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্তৃপক্ষ জানায় যে, আইন অনুযায়ী কারাগারে বন্দি সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান করা হয়, তবে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করার কোনো সুযোগ নেই।
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত