সংবাদ শিরোনাম


চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার টাকা দিলে মাদকসহ সব সুযোগ-সুবিধা মেলে

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার টাকা দিলে মাদকসহ সব সুযোগ-সুবিধা মেলে

sub-editor    ০১:৪৪ এএম, ২০২৫-০২-০৭    154


চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার টাকা দিলে মাদকসহ সব সুযোগ-সুবিধা মেলে

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার টাকা দিলে মাদকসহ সব সুযোগ-সুবিধা মেলে 

 আজগর আলি মানিক এর রিপোর্টে।   চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে টাকার বিনিময়ে মিলছে বন্দীদের চাহিদামত সব কিছু। বিষয়টি অনেকটা গোপনে করা হলেও মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দির সঙ্গে কথা বলেও অনেক অনিয়মের বিষয়ে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলছে জেল কর্তৃপক্ষ। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেল কোডের বাইরে গিয়ে নানা অনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। টাকা হলেই কারাগারে বাসা বা আবাসিক হোটেলের মত পাওয়া যাচ্ছে সব সেবা। আর যাদের টাকা নেই তাদের কাছে কারাগার যথারীতি এক অন্ধকারের বদ্ধজীবন। বিত্তবান বন্দিরা যত বড় অপরাধীই হোক না কেন তাদের জন্য সব সুযোগ সুবিধা বরাদ্দ। অন্যদিকে টাকা যাদের নেই তাদের কপালে জোটে নানা নির্যাতন।
মুক্তি পাওয়া বন্দিরা জানান, কারাগারে প্রবেশের পরই সবাইকে ‘আমদানি’ নামক একটি সেলে বসানো হয়। এরপর রাইটার (সাজা প্রাপ্ত কয়েদি) এসে যারা টাকা দিতে সম্মত হয়, তাদের পছন্দমতো সেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। টাকা দিতে সম্মত না হলে তাদের ‘ইলিশ ফাইলে’ (কাত করে ইলিশ মাছ রাখার মতো) রাখা হয়। বন্দিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখানে আবাসিক হোটেলের মতোই সব সুবিধা দেওয়া হয়। এমনকি টাকা হলে পাওয়া যায় যে কোনো মাদকদ্রব্য, ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র। 
সূত্রে জানা গেছে, নতুন-পুরনো বন্দিতে ঠাসা বর্তমান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। তিলধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকায় আগে থেকেই অমানবিক দিনযাপন করছেন বন্দিরা। আর সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বিত্তবান বন্দিরা কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকার সুবিধা নিচ্ছেন। আবার সেলে বন্দি, অনেক দুধর্ষ সন্ত্রাসী সেখানে নিজ বাসার মত সব সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে যারা টাকা দিতে পারছেন না তারা ‘ইলিশ ফাইলেই’ এ থাকছেন। প্রয়োজনীয় খাবার, গোসলের পানি ও খাবার পানিও পান না তারা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কারাগারে গড়ে উঠেছে গাঁজা মদের আস্তানা। যুমনা ১০ নাম্বরে আবদুর নবী লেদু নামে আওয়ামী লীগের এক নেতা এসব অবৈধ সুবিধা পচ্ছে।  কারাগারকে তাদের পারিবারিক জায়গা ভিটা মনে করা কিছু কিছু জমাদার ও কারারক্ষীকে টাকা দিলে সব কিছুর ব্যবস্থা করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। 
এছাড়া ওয়ার্ডের ইনচার্জকে টাকা দিলে রান্নাকরা তরকারী এবং  ভাতসহ বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা মিলে। বৈঠকখানা নামে পরিচিত লাভ করা সকাল ৫ টায় জেলার দিয়ে বিভিন্ন রকমের বিচারে নামে অত্যাচার শুরু হয়।  যেমন  কাউকে বেরি, আবার কাউকে সেলে,  ডান্ডা বেরি, আর কাউকে মেরে মরে তাদের মত করে বিচার করে। আর সুপাদারদের ক্ষমতাও অনেক। আনিছ ও আফজল নামে দুই সুপাদার চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে আসার অভিযোগ রয়েছে। এদের চলাফেরাও রাজকীয়। এরা কোটি টাকার বাড়ি গাড়ি করেছে বলে সূত্রে নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন আওয়ামী লীগের দালাল ও দোসরা কারাগারে এত সুয়োগ সুবিধা কেন পাচ্ছেন ? অন্যদিকে কারাগারের ডিআইজি সেখানে গরুর দুধ বিক্রি করে। আরা যারা রান্নার কাজ করে তাদের মাসে উপার্জনও লক্ষ টাকার উপরে। যেমন তরকারী, ডিম, নাস্তা, বিক্রি করা থেকে শুরু করে সব কিছুর এজেন্ট হিসাবে কিছু কিছু সাজাপাপ্ত আসামীরা এগুলো করে থাকে। আর মেডিকেলে একটা সিট নিতে হলে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা, এরপর থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা করে দিতে হয়। এরা কোনো রোগী নয়। সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। অন্যাদিকে চট্টগ্রামে কসাই আবদুর নবী লেদুর ভাগিনা মামুন নামে একজনকে  কারাগারে ভিতরে জামাইর আদর করে আসারও অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে মেডিকেলে আছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এরা এত অনিয়মের সাহস কেমনে পায়, জেলার আর সুপারের সহযোগিতা না থাকলে।  আর যখন আসামীদের জামিন হয় তখন সকাল থেকে বিকাল পযন্ত গেইটের সামনে এনে সারাদিন বসিয়ে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। যারা টাকা দিতে পারে তাদের ৩০ মিনিটের মধ্যে আসতে পারে। না হয় সারাদিন বসিয়ে রাখে রুমের ভিতরে। 
এছাড়া কারাগারে থেকে অনেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবাইল ব্যবহার করেন। ভিডিওকলে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কথাও বলেন। তাদের অনেকের জন্য চুলার জন্য ইট, জ্বালানির জন্য ন্যাকড়া, প্লাস্টিকের বোতল, গ্যাসলাইট, ক্যাবল তার, দড়িসহ নানা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। এমনকি কারাগারে বসে সিগারেট খাওয়ার বৈধ সুযোগ থাকলেও সেখানে অনেকে ইয়াবা কিংবা গাঁজার মতো মাদকও গ্রহণ করছেন।
জানা গেছে, বন্দিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলেই অভিনব পদ্ধতিতে বাইরে থেকে গাঁজা-ইয়াবা নিয়ে আসছেন কারাগারের ভেতরে। চট্টগ্রাম কারাগারের বেশিরভাগ বন্দিই মাদকাসক্ত। কারাগারে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকে সুবেদার, জমাদার ও কারারক্ষীরা। ভেতরে ভয়ংকর বন্দিদের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়। 
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের এক উর্দতন কর্মকর্তা বলেন, আপনি যেসব অনিয়ম ও অনৈতিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোন কিছু কারাগারে হচ্ছে না। সবকিছুই সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত।
সূত্র জানিয়েছে, মাদক বাণিজ্য, মোবাইল ফোন সরবরাহ, বন্দিদের তথ্য আদান-প্রদান, বন্দির স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, জামিন বাণিজ্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অপরাধে কারাগারের অনকে কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল 
জানা গেছে, এভাবে টাকার লোভে কারাগারের ভেতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক কারারক্ষী। কোনোভাবেই মাদক বাণিজ্য থেকে নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকা আসামিদের সঙ্গে কারারক্ষীদের যোগসাজসের চলছে এসব মাদক ও মোবাইল বাণিজ্য।
কারাগার থেকে বের হওয়া এক ব্যক্তি জানান, এখানে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বেশি বন্দি রয়েছে। তার মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগই মাদক মামলার আসামি। তাদের অনেকে মাদক সেবন করে, কেউ কেউ ব্যবসাও করে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম কারাগারে এখন ধারণক্ষমতার আড়াইগুণ বেশি বন্দি রয়েছে। কারাগারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামরা বসিয়ে মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। কারারক্ষীদের সবসময় সতর্ক করার পাশাপাশি অপরাধকর্মের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


রিটেলেড নিউজ

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

sub-editor

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

sub-editor

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত

দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ?

দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ?

sub-editor

দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক।  বাংল... বিস্তারিত

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন?

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন?

sub-editor

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত

চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ  ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক্ষমতার প্রভাব’ খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, যুবদল কর্মীর ওপর হামলা

চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক্ষমতার প্রভাব’ খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, যুবদল কর্মীর ওপর হামলা

sub-editor

চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত

সর্বশেষ

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

sub-editor

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

sub-editor

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত

দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ?

দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ?

sub-editor

দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক।  বাংল... বিস্তারিত

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন?

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন?

sub-editor

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত