বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫২ এএম
"শীতের সকাল, বাটালি হিল আর হাঁটার সংসদের জ্ঞানী গলাবাজরা"
মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাটালি হিলের এক অলিখিত নিয়ম হলো—যাঁরা ভোরের প্রথম আলোয় উঠে আসেন, তাঁরা হয় শতায়ু অঙ্গনের সদস্য, আর যাঁরা দেরিতে এসে হাঁটতে শুরু করেন, তাঁরা গলাবাজ সংসদের প্রতিনিধি। এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। শতায়ু অঙ্গনের সদস্যরা শরীরচর্চায় ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের কথাবার্তায় সতেজতা, বিনয়, আর পরিশীলিত চিন্তার প্রতিফলন। কিন্তু দেরিতে আসা গলাবাজ দলের সদস্যদের কাজ মূলত হাঁটার নাম করে হাঁটবার থেকে বেশি মুখের ব্যায়াম করা। আমাদের শতায়ু অঙ্গনের বন্ধুরা যখন প্রাতঃভ্রমণ শেষে মন আর শরীর
সতেজ করে বাড়ি ফেরেন, তখনই গলাবাজ দলের আবির্ভাব। হাঁটাহাঁটিতে তাঁদের মনোযোগ কম, কিন্তু দেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিশ্বসংসারের যাবতীয় সমস্যায় তাঁরা বিশেষজ্ঞ। এমনকি তাঁরা নিজেদের মিথ্যা গল্পে এমন নিখুঁত ভঙ্গি আনেন যে, বাইরের কেউ শুনলে হয়তো বিশ্বাস করে বসবে, এঁরা দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারক! আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কেউ কখনো এমন আবোলতাবোল কথার পৃষ্ঠপোষকতা করেন না। তাঁদের আলোচনায় থাকে স্বাস্থ্য, সাহিত্য, প্রকৃতি, আর জীবনের ছোট ছোট আনন্দ। আর এই গলাবাজ সংসদের লোকজন? তাঁদের কাছে সত্যের চেয়ে কল্পনা, আর নীতির চেয়ে বিতর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের হাঁটতে আসা মানে একরকম মাইক্রোফোন নিয়ে আসা, যেখানে তাঁরা নিজেরাই বক্তা, নিজেরাই শ্রোতা। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, আমাদের শতায়ু অঙ্গনের বন্ধুরা কখনোই এই গলাবাজ সংসদের মিথ্যা কথা বা অহেতুক বিতর্কে নিজেদের যুক্ত করেন না। তাঁদের মতো নির্মল, শান্তিপ্রিয় আর ভদ্র মানুষেরা গলাবাজির ধারে-কাছেও যান না। তাই সকাল সকাল হাঁটার আসল উদ্দেশ্য, শরীর আর মনের প্রশান্তি, তাঁদের জীবনেই বাস্তবায়িত হয়। এখন প্রশ্ন হলো, গলাবাজ সংসদের এই দলটি কবে সচেতন হবে? না, তাদের পরিবর্তন হওয়া আমাদের চাওয়া নয়। কারণ যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে বাটালি হিলের এই মজার গল্পগুলো হারিয়ে যাবে, আর সেই সঙ্গে হারিয়ে যাবে আমাদের শীতের সকালে রসবোধের চমৎকার উপাদান।
আজ সকালে দেরিতে ঘুম ভেঙে উঠেই মনে হলো, হাঁটার সময় তো প্রায় ফুরিয়ে এলো। কিন্তু বাটালি হিল যে ডাক দেয়, তার ডাক উপেক্ষা করার সাহস এখনো অর্জন করতে পারিনি। তবুও গায়ে গতরে চললাম। পথে নামতে দেরি হলেও, মনস্থ করলাম হাঁটাটা মন ভরে করতেই হবে। প্রায় দেড় ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করে যখন ফিরছি, তখন মনে হলো এই বাটালি হিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার নয়, মানুষের কথার ‘জ্ঞান-প্রস্রবণের’ উৎসও। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম হাঁটার সংসদে। আহা, এখানে বসে থাকা মানুষগুলোর বুদ্ধি, মেধা, আর কথার ঝাঁজ দেখলে মনে হয়, পৃথিবীর যাবতীয় সমস্যার সমাধান শুধু এদের কথার ঝুলিতেই রয়েছে। আজকের আলোচনা ছিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বনাম দলের সমন্বয়ক ও উপদেষ্টাদের মধ্যে মতবিরোধ নিয়ে। মনে হচ্ছিল, তারা সবাই যেন মির্জা ফখরুলের ছায়াসঙ্গী হয়ে দল চালানোর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। যখন একজন চেঁচিয়ে বলল, "আমি তো বলেছিলাম, এই ফখরুল দিয়ে দল চলবে না!" তখন পাশের আরেকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে বলল, "হ্যাঁ, তোমার কথাই সত্য! ও তো একটা কিছুই পারে না!" মুহূর্তে তৃতীয় একজন ঢুকে বলল, "আরে ভাই, তোমরা কি জানো না? দল চালানো মানে দেশের হাল ধরা। আর ফখরুলের পক্ষে এটা সম্ভবই না।" তাদের কথায় এমন উঁচুস্তরের তত্ত্ব-তালাশ আর কল্পনাপ্রসূত ব্যাখ্যা ছিল যে, আমি কানের আঙুল দিয়ে কান বন্ধ করেও ব্যর্থ হলাম। কারণ এদের তর্ক এত জোরালো যে তা আঙুল ভেদ করেও পৌঁছে যায়।
গল্প শুনতে শুনতে আমার মনে হলো, এদের নিয়ে একটা গবেষণাপত্র লিখলে কেমন হয়! এ গবেষণায় যদি সফল হই, তাহলে হয়তো নোবেল পুরস্কারও পেয়ে যেতাম। তবে সমস্যা একটাই, দেশের একমাত্র নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস যদি সুপারিশ না করেন? কারণ আরেকজন নোবেল জয়ী জন্মালে হয়তো তাঁর একাধিপত্যে আঁচ লাগবে। তবুও চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ!
শীতের সকালে হাঁটতে গিয়ে বুঝলাম, এবার ঠান্ডার কামড় অনেকটাই কমে গেছে। একটু গরম গরম পরিবেশে হাঁটলাম। তবে বাটালি হিলের এই জ্ঞানীগুণী গলাবাজদের কথার উত্তাপ আমার শরীর আরও গরম করে দিল। তাদের বিতর্ক, তাদের জ্ঞানভাণ্ডারের সীমাহীনতা, আর একে অপরের ওপর তর্কের ঝড় দেখে মনে হলো, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্ক এখানে স্থানান্তরিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সূর্যের লাজুক আলো দেখতে দেখতে বাসায় ফিরলাম। মনে হলো, এই সবজান্তা পণ্ডিতদের গলাবাজি কখনো বন্ধ হবে না। কিন্তু ভেবে দেখলাম, এই কথার ঝড় যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বাটালি হিলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এমন উপভোগ্য সকাল আর কোথায় পাবো?
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত
বিগত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং তৎকালীন সরকারের দমন-প... বিস্তারিত
চট্টগ্রামে মেয়রের ড্রাইভার জসিমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক... বিস্তারিত
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মানবিক উদ্যোগ রাজারবাগ-বাগপাড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ ও সেবার মান বাড়ানোই এখন বড় ... বিস্তারিত
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসির ডিডি দীপক—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ? লেখক: আজগর আলী মানিক। বাংল... বিস্তারিত
সাংবাদিকের মোবাইল চুরি, বিকাশ-নগদের টাকা উত্তোলন: তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও চোর অধরা কেন? নিজস্ব প্রত... বিস্তারিত